সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 2:51 pm

শিক্ষার্থীদের ছয় দফা, ৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ দুই উপদেষ্টা

আগের দিন যারা আগুনে ঝলসে সহপাঠীর নির্মম মৃত্যুর সাক্ষী হয়েছে, সেই উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শোকাহত শিক্ষার্থীরা গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। দিনভর কলেজ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন তারা। যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ তুলে এবং ছয় দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের এই মিছিল ও স্লোগানে উত্তপ্ত ছিল ক্যাম্পাস ও দিয়াবাড়ী এলাকা।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা টানা ৯ ঘণ্টা ক্যাম্পাসে অবরুদ্ধ করে রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরারকে। তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও প্রেস উইংয়ের আরও এক সদস্য। তবে রাত সাড়ে ৭টায় সেনা ও পুলিশের কঠোর পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়তে সক্ষম হন তারা। এরপরই সেখানকার কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী শিথিল করা হলে শিক্ষার্থীরাও এলাকা ছেড়ে চলে যান।


গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকে মাইলস্টোনের দুর্ঘটনাকবলিত ভবন দেখতে এবং নিহত-আহতদের খোঁজখবর নিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ দিয়াবাড়ী ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় ভিড় করেন। সকাল থেকে শত শত শিক্ষার্থী নিহত সহপাঠীর সঠিক সংখ্যা প্রকাশসহ এই মৃত্যুর বিচারের দাবিতে কলেজ ক্যাম্পাস এবং বাইরের দিয়াবাড়ী মোড় ও গোলচত্বর এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন উত্তরা রাজউক মডেল কলেজসহ আশপাশের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

এ অবস্থায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে মাইলস্টোন কলেজে যান সরকারের দুই উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও সি আর আবরার। সঙ্গে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ও প্রেস উইংয়ের এক সদস্য। সরকারের প্রতিনিধিরা বিধ্বস্ত ভবন ঘুরে দেখার পর ৫ নম্বর ভবনের নিচতলায় কলেজের উপাধ্যক্ষের কক্ষে যান।

এ সময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা উপদেষ্টাদের ঘিরে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সংকটপূর্ণ হয়ে পড়লে উপদেষ্টারা ৫ নম্বর ভবনের নিচতলায় অবস্থিত কনফারেন্স কক্ষে আশ্রয় নেন। তখনও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে পাঁচ থেকে সাতজন প্রতিনিধিকে ভেতরে নেওয়া হয় আলোচনার জন্য। উপাধ্যক্ষের কক্ষের পাশের সম্মেলন কক্ষে আলোচনাকালে শিক্ষার্থীরা সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও চিকিৎসায় চরম ব্যর্থতা দেখিয়েছে। সংকীর্ণ প্রবেশপথ, জরুরি আইডি কার্ডে অভিভাবকের ফোন নম্বর বা রক্তের গ্রুপের অনুপস্থিতি, দেরিতে অ্যাম্বুলেন্স আসা– এসব নানা বিষয় তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

পরমুহূর্তেই কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ৫ নম্বর ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। আরেকটি দল কলেজের মূল ফটকে অবস্থান নিয়েও স্লোগান দেয়। কলেজসংলগ্ন গোলচত্বরেও শত শত শিক্ষার্থীর মিছিল আর স্লোগানে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। ‘বিচার চাই না, সন্তানের লাশ চাই’, ‘সঠিক লাশের হিসাব চাই’– এমন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীরা গোলচত্বরে সড়কের ওপর বসে পড়েন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে গোলচত্বর, মেট্রোরেল ডিপোর সামনে এবং কলেজের ভেতর বিপুলসংখ্যক সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

এ সময় ছয় দফা দাবি তুলে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এই ছয় দফায় ছিল– নিহতদের সঠিক নাম ও তথ্য প্রকাশ, আহতদের সম্পূর্ণ ও নির্ভুল তালিকা প্রকাশ, শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলার ঘটনার জন্য জনসমক্ষে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া, নিহত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিবারকে বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো প্লেনগুলো বাতিল করে আধুনিক প্লেন চালু এবং বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিবর্তন করে আরও মানবিক ও নিরাপদ ব্যবস্থা চালু।

সরকারকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ছয় দফা দাবি পূরণের আলটিমেটাম দিয়ে রাস্তা অবরোধের ঘোষণাও দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশ একাধিকবার তাদের সরে যেতে বললেও শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান।

দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ কলেজের পাঁচ নম্বর ভবনের সামনে এসে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। সেনাবাহিনীর হয়ে সরকার দুঃখ প্রকাশ করছে।’ একই সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইংয়ের এক বিবৃতিতেও ছয় দফাকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করা হয়।
আইন উপদেষ্টা দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিলেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তিও শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগানে গোটা ক্যাম্পাস মুখর করে তোলেন। তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানও দেন। পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতা ও প্লাস্টিক বোতল নিক্ষেপ করেন বিক্ষুব্ধরা।

গোলচত্বরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা কলেজের ভেতর থেকে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কয়েকটি গাড়ি বের হতে শুরু করলে সেসব গাড়ি ঘিরে ধরে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। তবে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত ছিল।

এ অবস্থায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে দুই উপদেষ্টা ও প্রেস সচিব সেনা ও পুলিশ প্রটোকলে মাইলস্টোন ক্যাম্পাস থেকে বের হতে চেষ্টা করেন। তবে কলেজগেট পার হওয়ার পর দিয়াবাড়ী গোলচত্বরে উপদেষ্টাদের গাড়ির গতিরোধ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তারা স্লোগান দিয়ে দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক অবরোধের কারণে উপদেষ্টাদের গাড়ি সামনে এগোতে পারেনি। এ সময় পুলিশ ও বিজিবি দুই দফায় শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দিলেও সংগঠিত হয়ে ফের বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে ৩টা ৪৮ মিনিটে উপদেষ্টাদের গাড়ি ঘুরিয়ে ফের মাইলস্টোন কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে ফেরত আনা হয়। একই সময় পুলিশের ধাওয়ায় আহত অন্তত দুজন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নিতে দেখা যায়।

এ অবস্থায় আরও প্রায় চার ঘণ্টা পার হওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কড়া পুলিশ পাহারায় উপদেষ্টারা কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। শিক্ষার্থীরাও ধীরে ধীরে এলাকা ছাড়েন।

বিমানবন্দর জোনের পুলিশের প্যাট্রল ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম লিটন জানান, মাইলস্টোন স্কুলের পেছনের গেট দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপদেষ্টা ও প্রেস সচিবকে বহনকারী গাড়িগুলোকে বের করে দেন। তারা দিয়াবাড়ী বেড়িবাঁধ সড়ক দিয়ে চলে গেছেন।

শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি যৌক্তিক
গতকাল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা যে ছয়টি দাবি তুলেছেন, তার প্রতিটিই যৌক্তিক বলে মনে করছে অন্তর্বর্তী সরকার।

এতে বলা হয়, গত সোমবার দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে জনগণের ভিড় নিয়ন্ত্রণের সময় কর্তব্য পালনকালে শিক্ষার্থীদের কয়েকজন সেনাসদস্যের মারধরের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেনা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে জানান উপদেষ্টা।

সেনাবাহিনীর বক্তব্য
গতকাল রাত ৮টার দিকে নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এতে বলা হয়, দুর্ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনীর নিকটবর্তী ক্যাম্প থেকে সদস্যরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিস ও অন্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে আহতদের দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে তৎপরতা চালানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে, বিকেলের দিকে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কিছু উৎসুক জনতা ঘটনাস্থল ত্যাগ না করায় উদ্ধারকাজে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। ফলে, একদল উৎসুক জনতার সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়, যা এক পর্যায়ে একটি অনভিপ্রেত ঘটনার অবতারণা করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা জনগণের পাশে থেকে পেশাদারিত্ব ও সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধের সঙ্গে কর্তব্য পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পড়ে আছে শিশুদের জুতা, ব্যাগ-বই-খাতা
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এখন যেন নিঃশব্দ এক মৃত্যুপুরী। প্রতিদিন স্কুল সময়ে শিশুদের কোলাহল আর পড়ার শব্দে মুখর থাকত শ্রেণিকক্ষগুলো। এখন সেগুলো খালি-সুনসান। ভবনের করিডোরে নেই কোলাহল-শিক্ষার্থীদের ছোটাছুটি। বাতাসে ভাসছে পোড়া গন্ধ; এখানে যে পুড়েছে কারও শরীর, কারও স্বপ্ন!

স্কুল ভবনের সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে শিশুদের বই, খাতা, ব্যাগ, জুতা ও পানির বোতল। পড়ে আছে কয়েকজনের আঁকা ছবিও। এই ব্যাগ-বই-খাতায় যাদের কোমল হাত পড়ত, তারা অনেকে হয়তো এখন না-ফেরার দেশে, কিংবা হাসপাতালের বেড়ে পোড়া শরীর নিয়ে কাতরাচ্ছে।

মঙ্গলবার ভোর থেকে শত শত মানুষ এসেছেন বিধ্বস্ত ভবনটি দেখতে। তাদের কেউ বিধ্বস্ত ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন, ভিডিও করেছেন অনেকে। তাদের মধ্যে অনেকে আবার এই স্কুলের শিক্ষার্থীরাও রয়েছে।

সোমবার বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত সহপাঠীদের জন্য শোক প্রকাশ করেছে তারা। স্কুলের সামনের বিশাল মাঠে জড়ো হয়ে তারা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে সহপাঠীদের নির্মম মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচার চাচ্ছে।

মাইলস্টোন কলেজের গেটের সামনে দায়িত্ব পালনরত কমিউনিটি ট্রাফিক পুলিশের সদস্য মোহাম্মদ রফিক জানান, সোমবার রাতভরই মানুষের ভিড় ছিল। মঙ্গলবার ভোর থেকে এই ভিড় আরও বেড়ে যায়। এই এলাকার মানুষের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকেও মানুষ আসছেন।

এদিকে, যুদ্ধবিমানটি যখন মাইলস্টোনের স্কুল শাখার হায়দার আলী একাডেমিক ভবনের ছাদে আছড়ে পড়ে, তখন সেখানে কতজন শিক্ষার্থী ছিল; সে তথ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ নিয়ে মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এ নিয়ে সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারছে না।

প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ বুলবুল সমকালকে বলেন, বিমান বিধ্বস্ত হয়ে যেখানে পড়েছে, সেটা মূলত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাসরুম। দুটি ক্লাসে কমপক্ষে ৩০ জন করে ৬০ শিক্ষার্থী ছিল। তার মধ্যে অল্প কয়েকজন হয়তো বাইরেও ছিল।

গতকাল ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে সমকালকে বলেন, আমাদের কাছে স্কুলের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা থাকে। তবে ক্লাস ধরে ধরে তথ্য আমরা পাইনি। ঘটনার পর বোর্ডের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো সাড়া দেয়নি।

সমকাল/ ২৩ জুলাই ২০২৫

আরও - জাতীয় সংবাদ