সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

April 28, 2026 9:18 pm

মন্দ নামে ডাকা শক্ত গুনাহ

মানুষের নাম কেবল তার জাগতিক পরিচয় নয়, এটি তার অস্তিত্বের একটি পবিত্র আমানত। একটি সুন্দর নাম যেমন মানুষের অলংকার, তেমনি একটি মন্দ উপনাম তার হৃদয়ের গভীর ক্ষতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ আমরা অনেক সময় অসতর্কভাবে কিংবা লঘুচিত্তে অন্যের জন্য এমন সব উপনাম বেছে নিই, যা তার সম্মানকে ধূলিসাৎ করে দেয়। কাউকে তুচ্ছজ্ঞান করা বা বিদ্রুপাত্মক নামে ডাকা কেবল শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ নয়, বরং এটি একটি জীবন্ত হৃদয়কে আঘাত করার নামান্তর। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা একে অপরকে মন্দ উপনামে ডেকো না। ঈমান আনার পর মন্দ নাম কতই না নিকৃষ্ট’ (সুরা হুজরাত, আয়াত : ১১)। এই আয়াত মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে শুদ্ধ ও সুন্দর করার এক গভীর নির্দেশনা।

ইসলাম আমাদের শেখায়, ইবাদত যেমন রুহের খোরাক, তেমনি সুন্দর আচরণ সম্পর্কের অলংকার। একজন মুমিনের ঈমানের দীপ্তি তার ভাষার মাধুর্যে প্রতিফলিত হয়। রসিকতা বা অবজ্ঞার ছলে কাউকে কটু নামে ডাকা প্রথমে তুচ্ছ মনে হলেও তা ধীরে ধীরে ব্যক্তির আত্মমর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে। আমরা অনেক সময় ভুলে যাই একটি শব্দ কোনো একটি মনের বিশাল আকাশকে কালো মেঘে ঢেকে দিতে পারে। ইসলাম আমাদের শেখায়, ভাষা যেন হয় বারিধারার মতো স্নিগ্ধ, যা মানুষকে সিক্ত করবে, দগ্ধ নয়।

আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের নাম ধরে ডাকার ক্ষেত্রেও যে মাধুর্য মিশিয়ে দিতেন, তা শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে সবার হৃদয়ে ভালোবাসার জোয়ার বইয়ে দিত। তাঁর সম্বোধন ছিল সম্মানের, তাঁর ডাক ছিল ভালোবাসার। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন মানুষকে তাদের এবং তাদের পিতার নাম নিয়ে ডাকা হবে।

তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত তার জন্য এবং তার সন্তানের জন্য সুন্দর নাম রাখা।’ এই হাদিস আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য তুলে ধরে নাম কেবল দুনিয়ার পরিচয় নয়, এটি আখেরাত পর্যন্ত বিস্তৃত এক পরিচয়ের ধারক। তাই নাম উচ্চারণ হোক শ্রদ্ধায়, সম্বোধন হোক মর্যাদায়। কারণ একটি সুন্দর ডাকও হতে পারে ইবাদতের অংশ, আর একটি কটু শব্দ হতে পারে হৃদয়ের নিঃশব্দ আঘাত।

আজকের ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ যেন এক স্বাভাবিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সুরা হুজরাতের শিক্ষা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। তাই হাসির ছলেও নেটদুনিয়া কিংবা সমাজজীবনে কাউকে বিদ্রুপাত্মক নামে ডাকা থেকে বিরত থাকা জরুরি। অন্যকে সম্মান করা নিজের আভিজাত্যেরই পরিচয়।

আমাদের ভাষা ও সম্বোধন হওয়া উচিত মার্জিত ও মর্যাদাপূর্ণ। কারণ সুন্দর আচরণ ও শালীন কথাবার্তাই গড়ে তোলে একটি মানবিক ও শান্তিময় সমাজ।


সৈয়দ আবুল হাসনাত জিসান

সময়ের আলো/এএডি/২৮ এপ্রিল, ২০২৬

আরও - ইসলাম সংবাদ