-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে ভাইকে ফোন ফুরকানের
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন শিশু সন্তান ও শ্যালকসহ একই পরিবারের পাঁচজন নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার সন্দেহে গভীর রাতে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া নিজেই তার ভাইকে ফোন করে খুনের খবর জানিয়ে পালিয়ে যায়। শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে পুলিশ রক্তাক্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করেছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ফুরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন শিশুকন্যা- মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া। স্বজনরা জানান, শনিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ফুরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে বলেন, আমি পাঁচজনকে মেরে ফেলেছি, এখন পালিয়ে যাচ্ছি। এরপরই প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে বীভৎস দৃশ্য দেখে পুলিশে খবর দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, ঘরের মেঝেতে তিন বোনের গলাকাটা মরদেহ সারিবদ্ধভাবে পড়ে ছিল। মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং শ্যালক রসুলের মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েস ও কোমল পানীয়র বোতল জব্দ করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বা খাবারে কিছু মিশিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর লাশের পাশে বেশ কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পড়ে থাকতে দেখেছে পিবিআই ও পুলিশ। সেসব কাগজ থেকে জানা যায়, ফুরকান এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগে থানায় একটি জিডি করেছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান জানান, ওই অভিযোগের কপিগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদ ও সন্দেহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর পিবিআই, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন জানান, দ্রুততম সময়ে অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
/কহু
সময়ের আলো/৯ মে, ২০২৬