সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 5:16 am

কুকুরছানা হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় ‘প্রাণী কল্যাণ আইন-২০১৯’এর ৭ ধারায় মামলা (নম্বর-৮) দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আব্দুন নূর।
পাবনার ঈশ্বরদীতে আটটি কুকুরছানা বস্তাবন্দি করে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার পর অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী নিশি রহমান (৩৮) কে গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশ।

মামলার পর রাত দেড়টার দিকে ঈশ্বরদী পৌরসদরের রহিমপুর গার্লস স্কুলের পাশে একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে নিশি রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, ‘ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত সমালোচিত হয়েছে। যে কারণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার মহোদয় ফোন করেছিলেন। তিনি বলেছেন, এই ঘটনা অমানবিক। এই ঘটনা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। তাই প্রাণী হত্যায় জড়িতদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এছাড়াও মহাপরিচালক স্যারও ফোন করে তার পক্ষে মামলা দায়ের করার নির্দেশনা দিয়েছেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার এবং মহাপরিচালক এ ঘটনায় মামলা করার নির্দেশ দেন।’

এদিকে কুকুরছানা হত্যার ঘটনায় ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নকে গত সোমবার (১ ডিসেম্বর) গেজেটেড কোয়ার্টার ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়। তারা মঙ্গলবার বাসা খালি করেন। নয়নের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে অভিযুক্ত নিশি রহমান দাবি করেন, ছানাগুলো বাসার সিঁড়ির পাশে থাকত এবং বিরক্ত করত। তাই তিনি বাজারের ব্যাগে ভরে একটি সজিনার গাছের গোড়ায় রেখে আসেন; পুকুরে কীভাবে পড়েছে তিনি জানেন না।

প্রসঙ্গত, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে থাকা টম নামের কুকুরটি এক সপ্তাহ আগে আটটি বাচ্চা প্রসব করে। রবিবার রাতের কোনো এক সময় বস্তাবন্দি করে ছানাগুলো পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় এবং সোমবার সকালে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে সেগুলো মাটি চাপা দেওয়া হয়।

বাসভবনের কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর আলম জানান, নয়ন ছানাদের বিষয়ে কোনো কিছু জানেন না বললেও তার ছেলে জানায়, ‘আম্মু ছানাগুলোকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দিয়েছে।’পুকুর থেকে বস্তা তুলে খুলে দেখলে আটটি ছানাই মৃত পাওয়া যায়।

ছানাগুলো হারিয়ে মা কুকুর টম কান্না ও ছুটোছুটি করতে থাকে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মীরা তাকে চিকিৎসা দেন। পরদিন সারাদিন ছানাগুলোর খোঁজে তাকে উপজেলা কার্যালয় এলাকায় ঘুরতে দেখা যায়।

০৩ ডিসেম্বর ২০২৫

আরও - জেলা সংবাদ

আরও - জাতীয় সংবাদ