সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 8:10 am

ইন্দো., থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা এবং মালয়েশিয়ায় বন্যায় নিহত ৬শ' 

বিবিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা এবং মালয়েশিয়ায় টানা বৃষ্টি এবং ঝড়ের কারণে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত মোট প্রায় ৬০০ জনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন শতাধিক মানুষ। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বিধ্বংসী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

২৬ নভেম্বর থেকে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণের ফলে আচেহ ও পশ্চিম সুমাত্রা অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু বাড়ি ভেঙে পড়েছে, হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়েছে এবং অনেকেই ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত সেখানে ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, এবং নিখোঁজ রয়েছেন অনেকেই।

মালয়েশিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা কম হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপর্যস্ত। উত্তরের পেরলিস প্রদেশে বিপুল এলাকা পানির নিচে ডুবে গেছে এবং হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় সাইক্লোন ‘দিতওয়া’ আঘাত হানার পর তীব্র বন্যা ও ভূমিধস হয়, যেখানে ১৩০ জনের বেশি নিহত এবং ১৭০ জনের মতো মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ১৫ হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লাখো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে বন্যার পানি তিন মিটার পর্যন্ত উঠে গেছে, যা ১৬০ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ৩৮ লাখ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে হাট ইয়াই শহরে ৩৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা গত ৩০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মরদেহ রাখার জায়গা না থাকায় রেফ্রিজারেটেড ট্রাক ব্যবহার করা হচ্ছে লাশ সংরক্ষণের জন্য।

উদ্ধার তৎপরতা তীব্র বৃষ্টির কারণে বহু জায়গায় ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পেছনে টাইফুন কোতো এবং বিরল সাইক্লোন ‘সেনইয়া’ এর প্রভাব রয়েছে, যা বৃষ্টি ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে বন্যা এবং ভূমিধসকে আরও মারাত্মক করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমন দুর্যোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ হতে পারে।

সূত্র : বিবিসি
৩০ নভেম্বর ২০২৫

আরও - আন্তর্জাতিক সংবাদ