সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 4:40 am

শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে বরিশাল চ্যাম্পিয়ন

তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন ফরচুন বরিশাল গত আসরের চ্যাম্পিয়ন, এবারও তারা ছিল শিরোপার বড় দাবিদার। তবে আসরের শুরুতে ঠিক অতটা দাপুটে দেখায়নি দলটিকে। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই যেন শক্তিধর হয়ে উঠেছে তারা। সে কারণেই ফাইনালের মতো চাপের মহামঞ্চে ১৯৪ রান করেও হালে পানি পেল না চট্টগ্রাম কিংস। তামিম-হৃদয়-মেয়ার্স-রিশাদদের তিন বল অব্যবহৃত রেখেই ৩ উইকেটে ফাইনাল জিতে নিয়েছে বরিশাল।

বড় লক্ষ্য তাড়ায় যেমন সূচনা প্রয়োজন ছিল, তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে ৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটিতে সেই প্রয়োজনটাই মিটিয়েছেন তামিম। এরপর শরিফুল ইসলামের আঘাত। ৯টি চার ও একটি ছক্কার মারে ২৯ বলে ৫৪ রান করা তামিম নবম ওভারের প্রথম বলে বাঁহাতি ওই পেসারের শিকার হয়েই ফেরেন সাজঘরে। তিন বল পর একই পরিণতি বরণ করেন ডেভিড মালান। জোড়া আঘাত হেনে চট্টগ্রামকে ম্যাচে ফেরান শরিফুল। এবারই প্রথম নয়, ফাইনালে আরও একবার এই কারিশমা দেখিয়েছেন বাঁহাতি পেসার।

দ্রুত দুই উইকেট পতনের পর হাল ধরেছিলেন কাইল মেয়ার্স। ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে জয়ের পথ সুগম করছিলেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটার। মুশফিকুর রহিম চেষ্টা করেছেন তাকে সঙ্গ দিতে। খুব বেশি সময় পারেননি। তবুও পথটা দরাজই ছিল। কিন্তু ইনিংসের ১৮তম ওভারে শরিফুল হানেন জোড়া আঘাত। সমান তিনটি করে চার আর ছক্কায় ২৮ বলে ৪২ রান করা মেয়ার্সকে থামান তিনি। দুই বলের ব্যবধানে ফেরান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেও। তাতে ফাইনালের শেষটা হয়ে উঠে নাটকীয় ও রোমাঞ্চকর।

মাহমুদউল্লাহ যখন ফেরেন, তখনও জয় থেকে ২২ রান দূরে বরিশাল। হাতে বল ছিল ১৩টি। জয়ের পাল্লা তখন পেন্ডুলামের মতোই দুলছিল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বাতাসে। ছোট্ট একটা ক্যামিওতে রিশাদ সেটাকেই পুরোপু্ির হেলিয়ে দেন বরিশালের দিকে। ১৯তম ওভারের চতুর্থ বলে ছক্কা হাকিয়ে দলকে লক্ষচ্যুত হতে দেননি। এরপর শেষ ওভারে যখন ৮ রানের সমীকরণ, প্রথম বলে ছক্কা হাকিয়ে সেই সমীকরণ তিনিই মিলিয়ে ফেলেন। এরপর বাকি ছিল আনুষ্ঠানিকতা। ওয়াইড ডেলিভারিতে যেটা সম্পন্ন করেন চট্টগ্রামের বোলার হোসেন তালাত।

মিরপুরে শুক্রবার যেভাবে রান তাড়া করেছে বরিশাল, তাতে চট্টগ্রামের আক্ষেপের শেষ থাকার কথা নয়। কেননা দলটির ঝুলিতে আরও বেশি রান থাকার কথা ছিল। খাজা নাফে ও পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যাটে চট্টগ্রামের শুরুটা ছিল উড়ন্ত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নাফের ব্যাট আরও ধারাল হলে উঠলেও ইমন ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি। ইনিংসের শুরু থেকে শেষতক ক্রিজে ছিলেন, কিন্তু তরুণ বাঁহাতি ৪৯ বল খেলে চারটি ছক্কা আর ছয়টি চারের মারে ৭৮ বলে অপরাজিত থাকেন। তিনটি ছক্কা ও সাতটি চারের মারে ৪৪ বলে ৬৬ রান করেন নাফে। ইবাদত হোসেনের বলে তার বিদায়েই ভাঙে ১২১ রানের রেকর্ড উদ্বোধনী জুটি।

এরপর ক্রিজে গিয়ে তাণ্ডব শুরু করেন গ্রাহাম ক্লার্ক। রানআউট হওয়া এই ব্যাটার ২৩ বলে করেন ৪৪ রান, দুটি চারের পিঠে হাঁকান তিনটি ছক্কা। যেভাবে খেলছিলেন তিনি, তাতে চট্টগ্রামের সংগ্রহ ২০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই জেগেছিল। কিন্তু শেষদিকে ইমন তাল মেলাতে না পারায় প্রত্যাশিত মাত্রা পায়নি মোহাম্মদ মিঠুনের দলের সংগ্রহ। তবুও যে রান তুলেছিল তারা, শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে ওই রানটাও পাহাড়সম। অতীত তো বলছিল ১৯৪ রান অনতিক্রম্য। কেননা, ফাইনালে ১৭৬ রানের বেশি তাড়া করার রেকর্ড নেই।

ক্রিকেটে বহুল প্রচলিত প্রবাদ, রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙার জন্য। ওই প্রবাদকেই সত্য প্রমাণ করে ২০২৩ সালের ফাইনালে ১৭৬ রান তাড়া করে সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে যে রেকর্ড জয় তুলেছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, সেই রেকর্ড এদিন নতুন করে লিখেছে ফরচুন বরিশাল। তামিমের দল টানা দ্বিতীয়বার করল শিরোপা উৎসব।

 

আরও - খেলাধুলা সংবাদ