সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 4:41 am

‘বাংলাদেশকে শিরোপা জেতাতে চাই’

বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়ানোর অপেক্ষায় আছেন কানাডা প্রবাসী ফুটবলার সামিত সোম। দুই সপ্তাহ আগে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাকে লাল-সবুজ জার্সিতে খেলার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রদান করেছে। ঘরের মাঠে এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে লড়াইয়ে তাকে পাওয়ার আশা করছে বাফুফে। শেকড়ের টানে ঘরে ফিরতে সামিতেরও তর সইছে না। সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল ওয়ানস্কোরারের সঙ্গে এক পডকাস্টে কানাডার লিগে খেলা তার দল ক্যাভালরি এফসি ও বাংলাদেশকে নিয়ে দেখা তার স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছেন। সময়ের আলোর পাঠকদের জন্য সেই অংশটুকু ভাষান্তর করে দেওয়া হলো-

প্রশ্ন : ছোটবেলায় আনন্দের জন্য স্থানীয় বন্ধুদের সঙ্গে এডমন্ড ক্লাব ও যুব দলের হয়ে ফুটবল খেলেছেন। পেশাদার ফুটবলার হওয়ার চাপ নেননি। এক দশকের ফুটবল ক্যারিয়ারে পা দিয়ে বর্তমানে ক্যাভালরি এফসির হয়ে তৃতীয় মৌসুম খেলছেন। এডমন্ডে বেড়ে উঠার শুরুর দিনগুলোর কথা যদি বলতেন…
সামিত : বন্ধুদের সঙ্গে খেলা নিউ সকার ও ক্লাব সকারকে ঘরের মতো মনে হয়। দিনগুলো খুবই উপভোগ্য ছিল। ভালো ক্লাবগুলোর একটি হলেও সেখানে খুব একটা চাপ ছিল না। হাসি-ঠাট্টার মাধ্যমে দলীয় প্রচেষ্টায় খেলেছি।

প্রশ্ন : পেশাদার ফুটবলে নিজ শহরে ক্লাব এফসি এডমন্ডের সঙ্গে প্রথম চুক্তি করার পর কেমন অনুভূতি কাজ করেছে?
সামিত : অবশ্যই দারুণ অনুভূতি। কিছু খেলোয়াড়ই এই সুযোগটা পেয়েছিল। যদি পেছনে ফিরে তাকাই, অনেকেই আমার চেয়ে যোগ্য ছিল। সৌভাগ্যবশত আমি সুযোগটা পেয়ে ইতিহাসে অংশ হতে পেরেছিলাম। নিজ শহরের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা ও পেশাদার হওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের বিষয় ছিল।

প্রশ্ন : এডমন্ডে দুর্দান্ত সময় কাটানোর পর এমএলএসের মন্ট্রিল ইমপ্যাক্ট দলে যোগ দিয়েছিলেন। এই সময়টা ক্যারিয়ারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেসময় টরেন্টো এফসির বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগে পেনাল্টিতে কানাডিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলেন। সেই সময়ের স্মৃতির কথা যদি বলতেন…
সামিত : পেছনে যদি ফিরে তাকাই তবে দারুণ এক মুহূর্তই চোখে ভাসে। সেখানে একজন পুরোপুরি মানুষ হয়ে উঠেছিলাম। অবশ্যই কানাডা কাপ জেতা দারুণ স্মৃতি। অবাক ব্যাপার হচ্ছে, ২০১৯ সালে মন্ট্রিলের হয়ে ক্যাভালরির বিপক্ষে প্রথম খেলার সুযোগ হয়েছিল। হ্যাঁ, মন্ট্রিলে অনেক স্মৃতি রয়েছে। যখন সেখানকার স্কুলে পড়তাম তখন মাঠ ও মাঠের বাইরে অনেক বন্ধু হয়েছিল। সেই সময়টায় অনেক কিছুই শিখেছি।

প্রশ্ন : থিয়েরি অঁরি একজন কিংবদন্তি কোচ। সেখানকার সতীর্থরা ও আপনি তার পরিকল্পনা দেখেছেন। তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
সামিত : সত্যিই সে অসাধারণ একজন ব্যক্তিত্ব। সে ফুটবল ভালোবাসে, খেলাটা নিয়ে আবেগপ্রবণ। তার সান্নিধ্যে খেলা দারুণ এক অভিজ্ঞতা।
প্রশ্ন : কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে এফসি এডমন্ডের হয়ে প্রত্যাবর্তন করেও মাঠে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল পাননি। এই সময়টায় নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নতুন কোনো ব্যাপার শেখা হয়েছে?
সামিত : আমি সাফল্যের জন্য ফিরেছিলাম। কিন্তু শেষটায় এসে সাফল্য ধরা দেয়নি। কিন্তু এখন ভিন্নভাবে ক্লাবকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি ও নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করছি। আমার সময়টায় সিপিএলে ফিরে নিজ শহরের জন্য কিছু একটা করে দেখাতে চাই। এমন কিছু মুহূর্ত আসবে আপনি জিতবেন না, এসময় আপনি কেমন প্রতিক্রিয়া করবেন সেটা আপনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। আমি খুবই খুশি যে, এসব অভিজ্ঞতা ক্যাভালরির হয়ে দিতে পারছি।

প্রশ্ন : এখন পর্যন্ত ক্যাভালরির হয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন? সিপিএলে ২০২৩ সালে ফাইনাল খেলেছেন। পরের বছর শিরোপা জিতেছেন। জয়ের এই সংস্কৃতি আপনাকে কী শিক্ষা দিয়েছে?
সামিত : এটা স্পেশাল ঘটনা। আমরা শিখেছি মুদ্রার দুটো পিঠই হয়। পুরো আসরে ধারাবাহিকতা রাখতে হবে এবং সেটা মৌসুমের শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে। নতুন মৌসুমের ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে আপনার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেই পথেই বোধহয় এখন ছুটছেন…
সামিত : আমি যতটা সম্ভব ভিন্ন জায়গায়, ভিন্ন কন্ডিশনে চ্যালেঞ্জ নিতে চাই। এর জন্য আমি সবসময় প্রস্তুত। বাংলাদেশ দলে খেলা আমার কাছে অনেক বেশি গর্বের বিষয়। আমি লাল-সবুজ জার্সিতে খেলতে মুখিয়ে আছি। ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশেও কাজে লাগাতে চাই। দলকে যতটা সম্ভব সাহায্য করব। সবাইকে নিয়ে শিরোপা জেতার ইচ্ছা আছে।

সময়ের আলো/১৯ মে, ২০২৫

আরও - খেলাধুলা সংবাদ