সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 5:21 am

হামজাদের বরণে প্রস্তুত ঢাকা স্টেডিয়াম 

গ্যালারিতে বসেছে চকচকে নতুন চেয়ার। জায়ান্ট স্ত্রিনেও লেগেছে সংস্কারের ছোঁয়া। তাতে বেড়েছে পরিধি। ফ্লাডলাইটে এসেছে নতুনত্ব। প্রেসবক্স ও ড্রেসিং রুমের দৃশ্যপটেও বদল হয়েছে। রঙের ছোঁয়ায় দুটি জায়গাতেই অভাবনীয় পরিবর্তন হয়েছে। সবুজ ঘাসে চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা, অপেক্ষা নতুন নকশায় সাজার। খালি চোখে দেখে বোঝার উপায় নেই এটা সেই পুরোনো ঢাকা স্টেডিয়াম নাকি আন্তর্জাতিক কোনো আসরের জন্য প্রস্তুত হওয়া বড় ভেন্যু। দীর্ঘ প্রায় চার বছরের সংস্কার শেষে এমন রঙিন সাজেই সেজেছে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ঘরের মাঠে হামজার প্রথম ম্যাচটা সুন্দরভাবে আয়োজন করতেই যত চেষ্টা। চলছে শেষ মুহূর্তের সংস্কারকাজ। এশিয়ান কাপের বাছাই ম্যাচ হতে দুই সপ্তাহ সময় বাকি থাকলেও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও মাঠ বুঝে পায়নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।

২০২১ সালে ঢাকা স্টেডিয়ামের সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়। সেই সময় স্টেডিয়াম সংস্কারে প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছিল ৯৮ কোটি টাকা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সেই বাজেট। সূত্র বলছে, স্টেডিয়ামটির সংস্কারকাজে ব্যয় হচ্ছে ১৫৯ কোটি টাকা।

সংস্কারের আওতায় আসায় আন্তর্জাতিকমানের অত্যাধুনিক ফুটবল মাঠ পাচ্ছে বাংলাদেশ। স্টেডিয়ামের প্রায় প্রতিটি কোনাতেই লেগেছে সংস্কারের ছোঁয়া। বেশ কিছু স্থাপনায় এসেছে নতুনত্ব। বিশেষ করে গ্যালারিতে বসেছে রঙিন শেড, মাঠে লাগানো হয়েছে উন্নতমানের দেশি ঘাস। ড্রেসিং রুম আধুনিকায়ন করা হয়েছে। স্পেন থেকে আনা হয়েছে উন্নতমানের ফ্লাডলাইট। অনেক আগেই সেটি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় সেটি জ্বালিয়ে চলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। গ্যালারির ভাঙা চেয়ারের জায়গা দখল করেছে নতুন চেয়ার। নিরাপত্তাবেষ্টনী জোরদার করতে যোগ হয়েছে বাড়তি সিসি ক্যামেরা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে আছে জেনারেটর। এলইডি জায়ান্ট স্ক্রিনের পরিধি বেড়েছে। ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বোর্ড রাখা হয়েছে। ভিআইপি বক্স, প্রেসিডেন্ট বক্সের সঙ্গে প্রেসবক্সেও লেগেছে আধুনিকতার স্পর্শ। ভিআইপি বক্সে ২০ ফুট বাই ৮ ফুটের বুলেট প্রুফ গ্লাস লাগানো হয়েছে। আন্তর্জাতিকমানের জিম, টিকেট কাউন্টার, মেডিকেল ও ডোপ টেস্ট রুমও সংযুক্ত করা হয়েছে। অ্যাথলেটিকস ট্র্যাককে সাজানো হয়েছে নতুন ঢঙে। ড্রেনেজ সিস্টেমকে উন্নত করা হয়েছে। বাফুফের চাহিদা অনুযায়ী স্প্রিংলারের পরিবর্তে অত্যাধুনিক পপ-আপ সিস্টেম করা হয়েছে। দেড় ফুটের মতো মাটি সরিয়ে ফেলে মাঠ নতুন করে তৈরি করা এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে। সবমিলে এখন আন্তর্জাতিক ও লোকাল দুটি করে মোট চারটি ড্রেসিং রুম হয়েছে জাতীয় স্টেডিয়ামে।

বহুল প্রতীক্ষিত সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগে সবকিছু ঠিকঠাক যাচ্ছে এমন বলাও যাবে না। দুদিন আগে বাফুফেকে স্টেডিয়াম বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও সেটি সম্ভব করতে পারেনি এনএসসি। শনিবার দুপুরে অনলাইনে টিকেট বিক্রি শুরু করার কথা থাকলেও সেটি শুরু হতে লেগেছে রাত পর্যন্ত। টিকেট কাটতেও দর্শকদের পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে। বারবারই টিকিফাইয়ের সার্ভার ডাউন হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাফুফের কম্পিটিশন কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম গাউস বলেন, ‘টিকিফাইয়ের সফটওয়্যার আপডেটের জন্য টিকেট বিক্রি শুরু হতে দেরি হয়েছে। আপাতত টিকেট বুথ না দেওয়া হলেও প্রয়োজন হলে সেটি করা হবে।’

ঢাকা স্টেডিয়ামের মাঠ বুঝে পাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী চলে গেলে দুয়েক দিনের মধ্যে মাঠ বুঝে পাবে বাফুফে।’

স্টেডিয়ামের ভেতরটা যতই চাকচিক্য হোক না কেন বাইরে দোকানপাট, গাড়ি পার্কিং, ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ কিংবা হকারদের দৌরাত্ম্যে আশাহত হতে হবে সমর্থকদের। এই সমস্যা দূরীকরণে বাফুফে ও এনএসসি জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। দেখা যাক, সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামের বাইরের সৌন্দর্য ফেরাতে কতটা তৎপর হয় তারা।

হাছিবুল বাসার
সময়ের আলো/এমএইচ
২৫ মে, ২০২৫

আরও - খেলাধুলা সংবাদ