-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
আশুরার রোজা যেভাবে আমাদের হলো
আরবি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম। এটি ইসলামের সম্মানিত ৪ মাসের একটি, যে মাসগুলোকে আল্লাহ তায়ালা বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। এ মাসের দশম দিন ‘আশুরা’ নামে পরিচিত। ইসলামের ইতিহাসে দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিভিন্ন নবী-রাসুলের জীবনে সংঘটিত স্মরণীয় ঘটনা, আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ এবং তওবা কবুলের নানা দৃষ্টান্তের কারণে আশুরা মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
মহররম মাসের মর্যাদা বোঝাতে গিয়ে নবীজি (সা.) এ মাসকে ‘আল্লাহর মাস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৬৩)।
এ হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে, মহররম শুধু নতুন বছরের সূচনাই নয়, বরং এটি ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।
আশুরার রোজার গুরুত্ব ইসলামের শুরু থেকেই ছিল। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা মুসলমানদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। পরবর্তী সময়ে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজা নফল হিসেবে গণ্য হয়। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, জাহেলি যুগেও কুরাইশরা আশুরার রোজা পালন করত এবং নবীজি (সা.)-ও তা পালন করতেন।
মদিনায় হিজরতের পর তিনি নিজেও এ রোজা রাখেন এবং সাহাবিদেরও উৎসাহিত করেন। পরে রমজানের রোজা ফরজ হলে এটি ঐচ্ছিক ইবাদতে পরিণত হয়। (বুখারি, হাদিস : ২০০২)।
আশুরার রোজার সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো, এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)।
অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে, কবিরা গুনাহও স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাফ হয়ে যাবে। বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং আন্তরিক তওবা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।
আশুরার রোজা পালনের ক্ষেত্রেও ইসলাম একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতির শিক্ষা দিয়েছে। ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য এড়াতে নবীজি (সা.) শুধু দশম তারিখ নয়, এর সঙ্গে আরও একটি দিন রোজা রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি যদি আগামী বছর পর্যন্ত জীবিত থাকি, তাহলে অবশ্যই নবম তারিখেও রোজা রাখব।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৩৪)।
এ কারণে আলেমরা মহররমের ৯ ও ১০ তারিখ একসঙ্গে রোজা রাখাকে সর্বোত্তম বলেছেন। একইভাবে ১০ ও ১১ তারিখ রোজা রাখাও বৈধ ও প্রশংসনীয়। আর কেউ যদি ৯, ১০ ও ১১— এই তিন দিনই রোজা রাখে, তবে তা আরও উত্তম। এতে সুন্নাহর পূর্ণ অনুসরণ হয় এবং আশুরার রোজা যথাযথভাবে আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
আশুরা শুধু একটি নফল রোজার দিন নয়, বরং এটি মুমিনের জন্য আত্মসমালোচনা, গুনাহ থেকে ফিরে আসা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহামূল্যবান সুযোগ। তাই মহররম মাসকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে এ সময়ে বেশি বেশি নফল রোজা, তওবা, ইস্তিগফার ও নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।
সময়ের আলো/এসএকে
২৪ জুন, ২০২৬