-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
শ্রমজীবী গান আছে, নাটক আছে, সিনেমা নেই
নাম তার ছিল জন হেনরি
ছিল যেন জীবন্ত ইঞ্জিন
হাতুড়ির তালে তালে গান গেয়ে শিল্পী
খুশি মনে কাজ করে রাত-দিন…।
বাংলাদেশের পপ মিউজিকের পঞ্চপাণ্ডবের একজন ফকির আলমগীর গেয়েছিলেন এই গান। এরপর থেকে গানটি হয়ে যায় বাংলাদেশের মানুষের শ্রমমাখা কণ্ঠের গান। ১৮৮৬ সালে যে আট কর্মঘণ্টা করার প্রত্যয়ে এক হয়েছিল শ্রমিকরা, সেই ন্যায্য দাবির যেমন আজও শেষ হয়নি, তেমনই শেষ হয় না এই গানের রেশ।
গণশিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাসের কথা ও সুরে গানটি কণ্ঠে কণ্ঠে মিশে গেছে ফকির আলমগীরের সঙ্গে। শ্রমজীবী মানুষের গান মানেই হয়ে উঠে ফকির আলমগীরের গান। তার তেজোদীপ্ত কণ্ঠের আবেদন মানুষকে নাড়িয়ে দেয়।
ফকির আলমগীরের গানে শ্রমিকের জন্য ভালোবাসা ছিল অপ্রতুল। তার গাওয়া ‘ও সখিনা গেসস কি না ভুইলা আমারে’ গানটি তাই আজও এ আবেদন রাখে। ১৯৮৩ সাল থেকে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর হয়ে পথে, মঞ্চে বা আন্দোলনের উত্তাল জনসমুদ্রে গান করেছেন ফকির আলমগীর।
তবে শ্রমিকদের নিয়ে নিবেদিত গান বা সিনেমা তেমনটি পাওয়া যায় না। বিভিন্ন সময়ে বাংলা ভাষার গানে শ্রমিকের মনের কথা ফুটে উঠলেও সিনেমাতে উঠেনি, যা পাশ্চাত্যের সিনেমাতে হরহামেশা দেখা গেছে। যদিও শ্রমঘণ্টা আর শ্রমের হিসাবে উপমহাদেশের অন্য দেশের মতোই বাংলাদেশেও তারতম্য আছে বলে দাবি করেন অনেকেই।
তবে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রমজীবীদের মাঝে নিজস্ব গানের চর্চা সবসময়ই ছিল। কোক স্টুডিওতে দেখা গেছে প্রীতম হাসান দুটি গানে দুই ধরনের শ্রমজীবী মানুষের গান তুলে এনেছেন। ‘হাতে লাগে ব্যথারে’ গানে জেলে সম্প্রদায়ের আনন্দ এবং আবেগ ফুটে উঠেছে, তেমনই ‘মালো মা’ গানে ছাদ পিটিয়ে গান করা শ্রমজীবী মানুষের গানও এসেছে। ছাদ পেটানোর গান ‘সারাদিন পিটি কার দালানের ছাদ লো’ গানটি অনেক বছর আগে ইত্যাদিতে প্রচার করা হয়।
এ ছাড়া জারি-সারি গানগুলো গ্রামবাংলার শ্রমজীবীদের মাঝ থেকেই উঠে আসা। সারি বেঁধে গান গাওয়া হয় বলেই এই গানকে সারি গান বলা হয়, যা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। যেমন, ‘আল্লাহয় বলিয়া রাও খোল রে’। ভাটি অঞ্চলের গানে উঠে আসে মাঝিদের গল্প। আর গানের নাম হয় ভাটিয়ালি। যেমন, কে যাও ভাটির দেশের নাইয়ারে ভাই।
আছে ধান কাটার গান, গরুর গাড়ি চালকের গান। গবেষণা বলে, উত্তরাঞ্চলে গরুর গাড়ি একমাত্র দূরপাল্লার যান ছিল বলে চালকরা গান গেয়ে তাদের উপস্থিতি জানান দিতেন। আর তখনই কোনো গ্রামের বধূ হয়তো গেয়ে উঠতেন ওকি গাড়িয়াল ভাই…
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এভাবেই বিভিন্ন পেশার সঙ্গে মিশে আছে নিজেদের গান, যার সঙ্গে শ্রমজীবী মানুষের আনন্দ-বেদনা-হাসি-কান্না লুকিয়ে আছে। কেউ কেউ শুনে শুনে বছরের পর বছর ধরে গান গেয়ে যাচ্ছেন। আবার শিল্পীদের মাধ্যমে কিছু গান পৌঁছে যাচ্ছে শহরাঞ্চলে।
এসব গানের মাঝে মানুষের জীবনের ছায়ার কিছু অংশ সিনেমাতে থাকলেও মে দিবস নিয়ে সিনেমা দেখা যায় দেশীয় চলচ্চিত্র মণ্ডলে। অথচ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুক্তিযুদ্ধ ক্যাম্পে এই দিবস পালিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে বিশ্বের প্রায় নব্বইটি দেশের মতো বাংলাদেশেও গানে, গল্পে বা নাটকে-মঞ্চে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে।
সময়ের আলো/ ১ মে, ২০২৫
আরও - বিনোদন সংবাদ
টিএসসিতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ প্রদর্শিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি)
‘সাইয়ারার’ গান টপকে ট্রেন্ডিংয়ের এক নম্বরে বাংলাদেশের ‘ময়না’
বাংলা গানের দুনিয়ায়