সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 31, 2026 8:02 pm

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ তীব্র গরমে হাঁসফাঁস

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রে থাকা বিরল প্রজাতির অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করায় তাকে স্বস্তি দিতে খাঁচার ভেতরে স্ট্যান্ড ফ্যান স্থাপন করেছে কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হওয়া এই গোলাপি-সাদা রঙের মহিষটিকে দেখতে প্রতিদিনই অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় করছেন। প্রাণীটির বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে তার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই বিশেষ পরিচর্যার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান তীব্র গরমে বিরল এই প্রাণীটিকে স্বস্তি দিতে দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার গোসল করানো হচ্ছে। একই সঙ্গে পাইপের মাধ্যমে নিয়মিত পানি ছিটিয়ে তার শরীর ঠাণ্ডা রাখার সার্বিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাঁচার ভেতরে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক ও বৃদ্ধি করতে স্ট্যান্ড ফ্যান যুক্ত করা হয়েছে এবং গরমের মাত্রা আরও বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চিড়িয়াখানার তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ২৭ মে রাতে এই বিরল মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় এনে ‘এল-০৭’ নম্বর খাঁচায় রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে খাঁচার সামনে বাংলায় ‘সাদা মহিষ (ডোনাল্ড ট্রাম্প)’ এবং ইংরেজিতে ‘Albino Buffalo’ লেখা একটি সুনির্দিষ্ট পরিচিতি বোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে।

বর্তমানে মহিষটিকে প্রতিদিন প্রায় ২৫ কেজি নেপিয়ার ঘাস এবং প্রায় ৫ কেজি ছোলা ও ভুসি খাওয়ানো হচ্ছে, পাশাপাশি সে দিনে প্রায় আধা মণ পানি পান করছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ৯টায় ছোলা-ভুসি, বেলা ১১টায় ঘাস, দুপুর ২টায় আবার ঘাস এবং বিকেল ৩টায় পুনরায় ছোলা-ভুসি দেওয়া হয়।

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, মহিষটির ঠিক পাশের খাঁচায় একটি গয়াল রাখা হয়েছে, যা মুক্তভাবে চলাচল করতে পারে। তবে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মূলত গৃহপালিত প্রাণী হওয়ায় এবং তার পূর্বপরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার সুবিধার্থে তাকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের ইতিহাসে এটিকে একটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ১০ হাজার মহিষের মধ্যে মাত্র একটি এমন অ্যালবিনো বা সাদা বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্ম নিতে পারে। ফলে বিরল এই প্রাণীটি শুধু সাধারণ দর্শনার্থীদের আকর্ষণই নয়, বরং ভবিষ্যতে প্রাণিবিজ্ঞানীদের গবেষণা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

৩১ মে, ২০২৬

আরও - জাতীয় সংবাদ

আরও - আন্তর্জাতিক সংবাদ