-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা আছে যে ৭ টুথপেস্টে
দেশে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬টিতেই মিলেছে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকা কোন টুথপেস্টের ক্ষতি কেমন, তা জানানো হয়েছে।
গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি কোম্পানির টুথপেস্টে ক্ষতিকারক কণা বেশি পাওয়া গেছে, সেগুলো হলো—
সবচেয়ে বেশি ৩২০টি কণা পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেলে। মেডিপ্লাসের পর ক্লোজআপ রেড হটে ১৬০টি কণা পাওয়া যায়। গবেষণায় ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ ১৬০টি কণার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা-স্ট্রবেরিতে পাওয়া গেছে ১৪০টি কণা। সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি কণা। পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্টে ১০০টি কণা। হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি কণা পাওয়া গেছে।
জরিপে উঠে এসেছে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক সম্পর্কে সচেতনতা এখনও সীমিত। অংশগ্রহণকারীদের ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা আগে কখনও এ বিষয়ে শোনেননি। ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ এ বিষয়ে শুনলেও বিস্তারিত জানেন না। মাত্র ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে সচেতন বলে জানিয়েছেন।
মাইক্রোপ্লাস্টিকযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহারে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকেরাও। তারা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক পেটে গেলে হজম হয় না। এগুলো পেটে জমা হয়ে ধীরে ধীরে অকার্যকর করে দিতে পারে কিডনি ও লিভার।
পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (এসডো) দীর্ঘ এক বছরের গবেষণা ও সমীক্ষা শেষে রোববার (২৬ জুলাই) প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে।
গবেষণায় দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা দোকান ও পাইকারি বাজার থেকে স্থানীয় ও আমদানি করা ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে এসব নমুনার পরীক্ষাগার বিশ্লেষণ করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, টুথপেস্ট ব্যবহারের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে এই মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলো পেটে চলে গেলে দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে কিডনিতে জটিলতা, রক্তের বিভিন্ন সমস্যা এবং হজম প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
সময়ের আলো/আআ
২৭ জুলাই, ২০২৬