-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
আবদুল আল-সাইদ প্রথম মুসলিম সিনেটর যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইদ। মঙ্গলবার মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে জয় পান ৪২ বছর বয়সী এই মিশরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন রাজনীতিক।
সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সাইয়েদ অবসর নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারে স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। এসব ইস্যুতে ডেমোক্র্যাট পার্টির ভেতরেও মতবিরোধ ছিল।
শৈশব ও শিক্ষাজীবন
মিশিগানের রচেস্টার হিলসে মিশরীয় অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম আবদুল এল-সাইয়েদের। রাজনীতিতে আসার আগে চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতে কাজ করেছেন তিনি।
২০০৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন এল-সাইয়েদ। ২০১১ সালে রোডস স্কলার হিসেবে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড থেকে জনস্বাস্থ্যে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৪ সালে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় ডিগ্রি নেন।
২০১৫ সালে মিশিগানের সবচেয়ে বড় শহর ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। শহরটির আর্থিক সংকটের পর জনস্বাস্থ্যসেবা পুনর্গঠনের উদ্যোগ তদারক করেন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ পদে ছিলেন তিনি।
এরপর ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে গ্রেচেন হুইটমারের কাছে হেরে যান।
২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানব ও ভেটেরানসেবা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এল-সাইয়েদ। ওই কাউন্টির অন্তর্ভুক্ত ডেট্রয়েট শহর।
২০২৬ সালে নির্বাচনী রাজনীতিতে ফিরে এসে আগস্টে মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সকে পরাজিত করেন এল-সাইয়েদ।
তার প্রচারে সমর্থন জানান প্রগতিশীল রাজনীতির পরিচিত মুখ সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং মিশিগানের প্রতিনিধি রাশিদা তালিব।
প্রচারে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ চালু, আবাসন ব্যয় কমানো, রাজনীতিতে ধনী দাতাদের প্রভাব হ্রাস এবং কর্মজীবী পরিবারের অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিতি পান এল-সাইয়েদ। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে দেশটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।
ইসরায়েল নিয়ে তার অবস্থান নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হয়ে ওঠে। ডেমোক্র্যাটিক প্রাথমিক নির্বাচনে এল-সাইয়েদের কাছে পরাজিত হ্যালি স্টিভেন্স সাধারণ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে দলীয় অবস্থান থেকে সরে এসে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দেন। এল-সাইয়েদের প্রচারের বক্তব্য ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
স্টিভেন্সের এ পদক্ষেপে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হলেও এল-সাইয়েদের জয়ের পথে তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান
সিনেট নির্বাচনের প্রচারে এল-সাইয়েদের মুসলিম পরিচয়ও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান দলের কয়েকজন নেতা তার ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বারবার সমালোচনা করেন।
এসব আক্রমণের জবাবে এল-সাইয়েদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে দৃষ্টি সরাতেই প্রেসিডেন্ট তাঁর নাম ও ধর্মকে সামনে আনছেন।
এর আগে মুসলিম আমেরিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে এই প্রথম কোনো মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হলেন।
২০০৬ সালে কিথ এলিসন প্রথম মুসলিম হিসেবে কংগ্রেসে নির্বাচিত হন। পরে ২০১৮ সালে রাশিদা তালিব ও ইলহান ওমর প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচিত হন।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
০৪ নভেম্বর, ২০২৬